আল্লাহ তায়ালা চাইলে তাঁর প্রিয় বান্দাদের দিয়ে এমন অনেক কিছু ঘটাতে পারেন, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে করা একেবারেই অসম্ভব। এটি কুরআন এবং সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি অকাট্য সত্য। তাই ইসলামে ওলি-আউলিয়াদের ‘কারামত’ বা অলৌকিক ঘটনাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
তবে কারামত নিয়ে আমাদের সমাজে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। কারামতের বিষয়ে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নিচের কয়েকটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি:
১. কারামত শর্ত নয়: কোনো ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় বান্দা বা ‘ওলি’ কি না, তা প্রমাণের জন্য তাঁর থেকে অলৌকিক কোনো কারামত প্রকাশ পাওয়াটা মোটেও শর্ত নয়। ইসলামের ইতিহাসে এমন অসংখ্য বুজুর্গ ও প্রিয় বান্দা অতিবাহিত হয়েছেন, যাঁদের জীবন থেকে কোনো ধরনের কারামতের ঘটনাই প্রকাশ পায়নি।
২. সব অলৌকিক ঘটনাই কারামত নয়: কোনো ব্যক্তির দ্বারা যদি এমন কিছু ঘটে যায় যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না, তবেই চোখ বন্ধ করে সেটাকে ‘কারামত’ বলে ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। জাদুটোনা বা কুফরি কালামের সাহায্যে আজকাল অনেক ভণ্ড পীর বা সাধুও এমন অনেক অদ্ভুত ঘটনা ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে থাকে।
৩. যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা অবিশ্বাস নয়: আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো কারামতের ঘটনা ততক্ষণ পর্যন্ত সত্য বা মিথ্যা বলে চূড়ান্ত রায় দিই না, যতক্ষণ না পর্যন্ত এর পক্ষে বা বিপক্ষে এমন কোনো শক্ত দলিল পাই—যা আমার অন্তরকে প্রশান্ত করে।
৪. ওয়াজে কারামতের গল্পের চেয়ে কুরআন-হাদিস উত্তম: আমি কোনো ধর্মীয় আলোচনায় বা ওয়াজে শুধু কারামতের গল্প বলাটা খুব একটা পছন্দ করি না। এর বদলে আমি শুনতে চাই—আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কী করেছেন বা কী বলেছেন, কিংবা সাহাবি, তাবেইন বা তাবে-তাবেইনদের এমন কোনো আমল বা কথা, যা সম্পূর্ণ সহিহ সনদের (সূত্রের) মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।
৫. ভিত্তিহীন গল্প বলা বক্তাদের দৌরাত্ম্য: বর্তমানে যারা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে কুরআন-হাদিসের মূল কথার চেয়ে শুধু পীর-বুজুর্গদের কারামতের গল্প বেশি শোনায়, আমি মনে করি তাদের কুরআন-হাদিস সম্পর্কিত জ্ঞানের চরম স্বল্পতা রয়েছে। এই অজ্ঞতা ঢাকতেই তারা গল্পের আশ্রয় নেয়। এদের অনেকেই মূলত ঘণ্টা চুক্তিতে ওয়াজ করে শুধু নিজেদের পকেট ভরার কাজেই ব্যস্ত থাকে।
পরিশেষে মূলকথা হলো: ওলিদের কারামত অবশ্যই সত্য। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে কারামতের নামে যেসব মুখরোচক গল্প প্রচলিত আছে, তার বেশিরভাগই ডাহা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

