এই লেখায় মাযহাব সম্পর্কিত প্রায় সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সাধারণ মানুষের উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে। যাদের ধর্মীয় বিষয়ে তেমন ধারণা নেই, তারাও এই আলোচনার মাধ্যমে মাযহাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট একটি ধারণা পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ্। বিষয়বস্তু অনেক বড় হলেও সাধারণ পাঠকদের কথা মাথায় রেখে আলোচনাটি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
একজন ডাক্তারের উদাহরণ
ডাক্তারের কর্মপন্থা আমাদের সকলেরই জানা। ডাক্তাররা প্রথমে রোগের কথা শোনেন, তারপর ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। এছাড়া বড়জোর দু-তিনটা উপদেশ বা পরামর্শ দেওয়া ছাড়া ভিন্ন কোনো কথা তারা সাধারণত বলেন না।
তারা রোগীকে বলেন না: ‘আপনার যে রোগ হয়েছে, সেই রোগ সম্পর্কে প্রথম জানা যায় এত সালে। পূর্বের যুগের লোকেরা এই রোগের চিকিৎসা করত এভাবে। এই রোগের এই এই পর্যায় রয়েছে এবং তার জন্য দেওয়া হয় এই এই ঔষধ।’
রোগ সম্পর্কিত হলেও কেন এই সকল তথ্য ডাক্তার দেন না? কিংবা ‘কীসের ভিত্তিতে তিনি এই ঔষধ দিলেন?’—রোগীরাও সাধারণত এ ধরনের প্রশ্ন করেন না। কারণ আমরা জানি, রোগীর ওপর দয়া করেই ডাক্তার এই জ্ঞানের বোঝা চাপিয়ে দেন না। যদি দিতেন, তবে যা ঘটত:
-
ডাক্তারের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হতো।
-
এই অতিরিক্ত তথ্য জানার দ্বারা রোগীরও কোনো উপকার হতো না।
-
এত বিষয় বলতে বা লিখতে গেলে ডাক্তারের কাছে আসার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতো। ডাক্তার তাকে মূল কী পরামর্শ দিলেন, সেটাই তার আর বুঝে আসত না।
মূল বিষয়টা সহজে উপস্থাপনের জন্যই এই উদাহরণটি দেওয়া হলো।
আলেম ও সাধারণ মানুষের সম্পর্ক
আল্লাহ মানবজগতে বিভিন্ন স্তর তৈরি করে দিয়েছেন, যাতে মানুষ পরস্পর নির্ভরশীল হয় এবং একে অপরের দ্বারা উপকৃত হতে পারে। তাই কেউ ধনী, কেউ গরিব; কেউ শিক্ষিত, কেউ নিরক্ষর।
আল্লাহ তায়ালা জানেন, পৃথিবীর সবাই ইলমে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না। তাই তিনি সকল মানুষকে এই আদেশ দেননি। বরং বলেছেন:
“তাদের প্রত্যেক দলের একাংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকে?” (সূরা তাওবাহ -১২২)
আর সাধারণ মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ হলো:
“তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো।” (সূরা নাহল -৪৩ এবং সূরা আম্বিয়া -৭)
তাই জনসাধারণ আলেমদের কাছে এসে তাদের প্রয়োজনীয় ধর্মীয় বিষয় জেনে নেন। ‘কীভাবে অজু করবে? কীভাবে নামাজ পড়বে? কী করলে রোজা ভেঙে যায়?’ ইত্যাদি। আলেমরাও সহজ ভাষায় তাদেরকে বিষয়গুলো বলে দেন। তবে প্রয়োজন না পড়লে উল্লেখ করেন না ঠিক কোন কোন দলিলের ভিত্তিতে এই মাসয়ালা বের করা হয়েছে।
ডাক্তারের উদাহরণটি যারা বুঝেছেন, তারা এটাও বুঝবেন যে আলেমরা কেন সহজভাবে জনসাধারণকে মাসয়ালা বলে দেন এবং সব ক্ষেত্রে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করেন না। যদি দিতেন, তবে কী ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়াতো!
ধরুন, একজন সাধারণ মানুষ অজুর মাসয়ালা শিখতে এলেন। আলেম যদি বলা শুরু করেন, ‘অজু সম্পর্কে কুরআনের এই এই আয়াতে বলা হয়েছে, অমুক হাদিসের কিতাবে এই বর্ণনা রয়েছে, হাদিসগুলোর মান এমন, এই হাদিসে রাসূল (সা.) আদেশ দিয়েছেন সুন্নত বোঝানোর জন্য, আর ওইটিতে মুস্তাহাব বোঝানোর জন্য…’ —তাহলে লোকটি মনে মনে বলবে, “এক অজুর মাসয়ালা জানতেই এই অবস্থা, তাহলে নামাজ পড়ব কীভাবে?”
উম্মতের ওপর আলেমরা বড় এহসান (দয়া) করেছেন। তাদের কারণেই জনসাধারণ সহজভাবে আমলের পদ্ধতিগুলো জানতে পারছে।
মাযহাব কী?
মাযহাব শব্দের অর্থ পথ বা পন্থা। এটি কি কুরআন-হাদিসের বাইরের কিছু? কোনোভাবেই না। বরং কুরআন ও সুন্নাহ মেনে চলার সুশৃঙ্খল পন্থাই হলো মাযহাব।
কুরআন-হাদিসের নির্দেশনামূলক বর্ণনাগুলো দুই ধরনের। কিছু সুস্পষ্ট, আর কিছু সাধারণ মানুষের জন্য অস্পষ্ট। যে সকল আয়াতের অর্থ ও মর্ম সবাই বোঝে, সেখানে কোনো মাযহাবের প্রয়োজন নেই এবং এগুলোতে কোনো মতপার্থক্যও নেই। যেমন: নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত, নামাজের জন্য পবিত্রতা আবশ্যক ইত্যাদি।
কিন্তু এমন কিছু আয়াত ও হাদিস আছে, যার অর্থ ও মর্ম সুস্পষ্ট নয় বা একাধিক অর্থ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে একই বিষয়ে একাধিক হাদিস রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে বাহ্যিকভাবে বৈপরীত্য মনে হয়।
একটি উদাহরণ: “নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” —এই হাদিসের উদ্দেশ্য কী?
-
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো—সমস্ত আমলের ‘সওয়াব’ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
-
ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো—সমস্ত আমলের ‘শুদ্ধতা’ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
ফলে, কেউ যদি গোসলের সময় অজুর নিয়ত না করে, তবে শাফেয়ী মাযহাব অনুসারে তার অজু হবে না। কিন্তু হানাফি মাযহাব মতে, তার অজু হয়ে যাবে (যদিও সে অজুর সওয়াব পাবে না)। একই হাদিস থেকে কীভাবে দুটি ভিন্ন অর্থ নেওয়া যায়, এটি তার একটি চমৎকার উদাহরণ।
সাধারণ মানুষের পক্ষে সমস্ত আয়াত ও হাদিস সামনে রেখে এই অস্পষ্টতা দূর করা বা সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞ আলেমরা, যারা কুরআন-হাদিসের বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখেন, তারা এই মহৎ কাজটি করে দিয়ে গেছেন। তারা প্রথমে কুরআন-হাদিসের আলোকে কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন এবং সেই মূলনীতির আলোকে মাসয়ালা বের করেছেন। মূলনীতির ভিন্নতার কারণেই শাখাগত মাসয়ালায় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
তবে এই মতপার্থক্যকে ‘বিভক্তি’ বলার কোনো সুযোগ নেই। এক মাযহাবের অনুসারীরা কখনোই অপর মাযহাবের অনুসারীদের ভ্রান্ত মনে করেন না। তারা বলেন, “আমরা দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে এই মতটি গ্রহণ করেছি, যা আমাদের কাছে অধিকতর সঠিক মনে হয়। তবে অপর মতটিও সঠিক হতে পারে।”
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কি মতপার্থক্য ছিল?
শাখাগত বিষয়ে মতপার্থক্য স্বয়ং রাসূল (সা.)-এর যুগেও হয়েছিল।
সহিহ বুখারি (হাদিস নং ৮৯৯): ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) আহযাব যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে বললেন, “বনু কুরাইযা এলাকায় পৌঁছার আগে কেউ যেন আসরের সালাত আদায় না করে।” পথিমধ্যে আসরের সময় হয়ে গেলে একদল বললেন, “আমরা সেখানে না পৌঁছে সালাত আদায় করব না।” আরেক দল বললেন, “আমরা সালাত আদায় করে নেব, কারণ নবীজির নিষেধের উদ্দেশ্য এটা ছিল না (বরং উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত যাওয়া)।” রাসূল (সা.)-এর সামনে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি কারো সম্পর্কেই বিরূপ মন্তব্য করেননি।
অর্থাৎ, কুরআন-হাদিসের মর্ম বোঝার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য হওয়াটা নিন্দনীয় নয়।
সহিহ বুখারি (হাদিস নং ২২৫০): হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এক ব্যক্তিকে একটি আয়াত ভিন্নভাবে পড়তে শুনে তাকে রাসূল (সা.)-এর কাছে নিয়ে এলেন। নবীজি বললেন, “তোমরা উভয়েই ঠিক পড়েছ। তোমরা বাদানুবাদ কোরো না। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা বাদানুবাদ করে ধ্বংস হয়েছে।”
প্রচলিত কিছু অভিযোগ ও তার জবাব
১. “কুরআন-হাদিস মানবেন নাকি মাযহাব মানবেন?”
কিছু লোক প্রশ্ন করে, আপনি হানাফি নাকি মোহাম্মদী? কুরআন মানবেন নাকি ফিকহ মানবেন? এই প্রশ্নগুলো আসলে অত্যন্ত অবান্তর। ‘গীতা পড়বেন নাকি কুরআন পড়বেন?’—এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন। কিন্তু ‘ঢাকায় থাকবেন নাকি বাংলাদেশে থাকবেন?’—এটি কোনো প্রশ্ন হতে পারে না। ঠিক তেমনি, মাযহাব কুরআন-হাদিস থেকে ভিন্ন কিছু নয়। বরং কুরআন-হাদিসের সারনির্যাস ও প্রায়োগিক রূপই হলো মাযহাব।
২. “মাযহাব যদি কুরআন-হাদিসের অংশই হয়, তবে এর নাম হানাফী, শাফেয়ী কেন?”
ইমাম বুখারি (রহ.) এবং ইমাম মুসলিম (রহ.) হাদিস সংকলন করেছেন বলে তাদের কিতাবগুলো তাদের নামে প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে। তেমনি যারা মাসয়ালাসমূহ সংকলন করেছেন, তাদের সংকলনগুলো (যা মাযহাব নামে পরিচিত) তাদের নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে। এতে আপত্তির কিছু নেই।
৩. “চার মাযহাব একসাথে কেন মানা যায় না?”
একসাথে সব মাযহাব মানার সুযোগ দিলে মানুষ নিজের খেয়াল-খুশিমতো ইসলাম পালন করতে চাইবে। ইসলাম হলো আনুগত্যের নাম, প্রবৃত্তির অনুসরণ নয়।
যেমন, হানাফি মাযহাবে শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়লে অজু ভেঙে যায়, কিন্তু শাফেয়ী মাযহাবে ভাঙে না। এখন একজন হানাফি ব্যক্তি রক্ত বের হওয়ার পর যদি বলে, “এই মাসয়ালায় আমি শাফেয়ী মাযহাব মানছি, তাই আমার অজু ভাঙেনি”—তবে কি ইসলাম একটি তামাশায় পরিণত হবে না?
৪. “রাসূল (সা.)-এর যুগে তো মাযহাব ছিল না, তাহলে এটি কি বিদআত?”
রাসূল (সা.)-এর যুগে তো দুই মলাটে কুরআনও লিপিবদ্ধ ছিল না, কুরআনে হরকত (যবর, যের, পেশ) ছিল না, বুখারি-মুসলিম নামক কোনো কিতাবও ছিল না। তাহলে কি এগুলোও বিদআত? বিদআত বলা হয় দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করে তাকে সওয়াবের কাজ মনে করাকে। কিন্তু ইসলামী হুকুম পালনের জন্য সহজ কোনো মাধ্যম বা পদ্ধতি অবলম্বন করা বিদআত নয়। মাযহাব মানা হয় কুরআন-হাদিস অনুসারে যথার্থভাবে আমল করার মাধ্যম হিসেবে।
৫. “মাযহাব মানার কারণে ইসলামে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে”
তাদের আরেকটি দাবি হলো, মাযহাব মানার কারণেই নাকি ইসলামে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং মাযহাব না মানলে এই বিভক্তি দূর হয়ে যাবে।
কিন্তু তাদের এই দাবিটিও ঠিক নয়। শাখাগত বিষয়ে মতপার্থক্য আর কুরআনে যে বিভক্তি থেকে বারণ করা হয়েছে, তা এক জিনিস নয়। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয় যে উভয়টি এক এবং হারাম, তবে যারা মাযহাবের অনুসারী নয় বলে দাবি করেন, তারাও তো এই হারাম কাজে লিপ্ত!
বাংলাদেশে যারা মাযহাবের অনুসরণ করেন না, তাদের নিজেদের মধ্যেও অনেক ভাগ ও মতপার্থক্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে তাদের বড় দুটি দল আছে:
-
সৌদি পক্ষ: এদের দাবি, সৌদিতে যেদিন চাঁদ দেখা যাবে, সেদিন বাংলাদেশেও ঈদ পালন করতে হবে।
-
চাঁদ পক্ষ: এদের মত হলো, যেদিন বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যাবে, সেদিনই বাংলাদেশে ঈদ হবে।
২০১৪ সালের ১০ই অক্টোবর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া গোষ্টা মারকাস মসজিদে এ নিয়ে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠান হয়, যেখানে ‘চাঁদ পক্ষ’ বিজয়ী হয়। তাদের নিজেদের মধ্যকার এই বিতর্কই প্রমাণ করে যে, মাযহাব না মানলেই মতপার্থক্য দূর হয়ে যায় না।
মাযহাব অস্বীকারকারীদের দাবির বাস্তবতা
যারা দাবি করেন “আমরা ফিকহ বা মাযহাব মানি না, সরাসরি কুরআন-হাদিস মানি”, তাদের অধিকাংশই সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে মাসয়ালা বের করার যোগ্যতা রাখেন না। বাস্তবে তারাও কোনো না কোনো ব্যক্তির ব্যাখ্যা বা মতই মেনে চলেন।
পার্থক্য হলো, আমরা সেই যুগের বিজ্ঞ ইমামদের অনুসরণ করি, যে যুগকে স্বয়ং রাসূল (সা.) শ্রেষ্ঠ যুগ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর তারা অনুসরণ করেন বর্তমান যুগের এমন কিছু মানুষকে, যাদের অনেকেই পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত নন, বরং নিছক অনুবাদের ওপর নির্ভরশীল। তাছাড়া, আমরা অন্য মাযহাবের লোকদের ভ্রান্ত বলি না, কিন্তু তারা নিজেদের মতের বাইরের সবাইকে ভ্রান্ত মনে করেন।
তাদের দাবি মেনে নিলে যা হতো
তাদের মূল কথা হলো: “কারো সংকলন করে দেওয়া মাসয়ালা মানা যাবে না। বরং নিজেই কুরআন-হাদিস পড়ে মাসয়ালা বের করতে হবে।”
যদি তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হতো, তবে বাংলাদেশের মানুষসহ সকল অনারবকে সবার আগে আরবি ভাষা শিখতে হতো। কারণ, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কখনোই শতভাগ নিখুঁত অনুবাদ সম্ভব নয়। এখানে একটি সাধারণ ও যৌক্তিক প্রশ্ন জাগে:
“কুরআন-হাদিসের অনুবাদের ক্ষেত্রে আপনি যদি অন্যের (অনুবাদকের) ওপর নির্ভর করতে পারেন, তবে কুরআন-হাদিস থেকে মাসয়ালা বের করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমদের ওপর নির্ভর করতে পারবেন না কেন?”
আলেমদের প্রতি আস্থাহীনতার ভয়াবহ পরিণতি
তাদের এই ধরনের দাবির কারণে মূলত আলেম সমাজের প্রতি চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ যদি আলেমদের থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজেরাই কুরআন-হাদিস পড়ে মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করে, তবে সমাজে যে বিরাট ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা শুরু হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আলেমরা যখন কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন, তখন তারা কুরআন ও হাদিসের সামগ্রিক জ্ঞান সামনে রেখেই তা দেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের সামনে যখন একটি হাদিস আসে, তখন সে পূর্বাপর না বুঝেই নিজের মনমতো ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করে। অনেক হাদিস আছে, যা বিজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যা ছাড়া সাধারণের সহজে বুঝে আসবে না।
সঠিক দিকনির্দেশনা না পেয়ে এই অস্পষ্টতাগুলো যখন সাধারণ মানুষকে অস্থির করে তোলে, তখন অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে হাদিস অস্বীকারকারী কিংবা নাস্তিক হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন, এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা আমাদের চারপাশে অহরহই ঘটছে।

