ইসম ফেল হরফ

ইসম, ফেল ও হরফ কাকে বলে?

এই লেখাটিতে اِسْم (ইসম), فِعْل (ফেল) ও حَرْف (হরফ) নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্‌।

তবে তুমি যদি সংক্ষিপ্তভাবে জানতে চাও এগুলো আসলে কী এবং এটি জানার প্রয়োজনীয়তা-ই বা কী? তাহলে তোমার জন্য নিচের লাইন দু’টো।

ইসম, ফেল ও হরফ হচ্ছে আরবী শব্দের তিনটি প্রকার।

আর এই তিন প্রকার শব্দ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে আরবী ব্যাকরণ বুঝা সম্ভব নয়।

 

তাই এই লেখাটিতে আমি খুব সহজ একটি পদ্ধতিতে এই তিন প্রকার শব্দ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্‌।

উপরে বলেছি যে, ইসম, ফেল ও হরফ হচ্ছে আরবী শব্দের তিনটি প্রকার।

তুমি যেহেতু এই লেখাটি পড়তে পারছো, তাই আমি ধারণা করছি যে, তুমি শব্দের মানে জানো।

এখন তোমার জন্য শুধু এটুকু জানা জরুরী যে, আরবী ভাষায় শব্দকে كَلِمَة (কালিমা) বলে।

 

আচ্ছা, এবার একটা প্রশ্নের উত্তর দাও।

বলো, তোমার কল্পনাশক্তি কেমন?

তোমার সামনে যখন কোনো শব্দ বলা হয়, তুমি কি সেটা কল্পনা করতে পারো?

 

একটু পরীক্ষা করা যাক।

নিচের প্রতিটি প্রতিটি লাইনে তুমি একটি করে শব্দ দেখতে পাবে এবং সেই শব্দ দ্বারা যা বুঝো, তা কল্পনায় আনার চেষ্টা করবে।

যেমন, একটি লাইনে তুমি দেখবে যে ‘ঘড়ি’ লেখা আছে। শব্দটা পড়েই তুমি নিচের লাইনে চলে যাবে না। তোমার চোখে দেখা যেকোনো ঘড়ির দৃশ্য তুমি অন্তত পাঁচ সেকেন্ড কল্পনা করবে।

‘লিখছে’ শব্দটা পড়ে তুমি একটু কল্পনা করবে যে, তোমার বন্ধু বা কেউ একজন লিখছে।

 

শুরু করা যাক তোমার কল্পনার পরীক্ষা।

 

বই

খাতা

কলম

ঘড়ি

খেয়েছি

যাব

লিখছে

 

আমার বিশ্বাস, প্রতিটি শব্দ পড়ার সাথে সাথে তুমি শব্দগুলোর অর্থ কল্পনা করতে পেরেছো।

 

এবার আরও দুইটি শব্দ পড়ো এবং চেষ্টা করো সেগুলোও কল্পনা করার।

 

থেকে

দিয়ে

 

এবং আমার মনে হয় না, এই দুইটি শব্দের কোনো অর্থ তুমি তোমার কল্পনায় আনতে পেরেছো।

 

কিন্তু এই দুইটি শব্দের সাথে যদি আমি একটি করে শব্দ যুক্ত করে দেই, তাহলে শব্দ দুইটির অর্থ তোমার ঠিকই বুঝে আসবে ইনশাআল্লাহ্‌।

 

মাদরাসা থেকে

কলম দিয়ে

 

এই যে ‘থেকে’ এবং ‘দিয়ে’, এরকম অনেকগুলো শব্দ আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকি। সেই শব্দগুলো একটা একটা করে উল্লেখ করলে, তার অর্থ বুঝে আসে না, কল্পনা করা যায় না। কিন্তু যখন সেই শব্দগুলোর সাথে আরও একটি শব্দ উল্লেখ করা হয়, তখন শব্দগুলোর অর্থ ঠিকই বুঝে আসে।

এই ধরণের শব্দগুলোকে আরবীতে حَرْف (হরফ) বলে।

হরফের সংজ্ঞাটা আরও একবার পড়ো।

এককভাবে উল্লেখ করা হলে যে শব্দের অর্থ বুঝে আসে না কিন্তু আরেকটি শব্দের সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করলে অর্থ বুঝে আসে, এমন শব্দকে হরফ বলে।

 

আরবী ভাষায় শব্দকে মোট তিনটি প্রকারে ভাগ করা হয়েছে এবং আশা করি যে, উপরের আলোচনায় তুমি তিন প্রকারের মধ্যে একটি প্রকার (হরফ) সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করেছো।

নিচের অংশে আমরা আরও দুইটি প্রকার সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা লাভ করব ইনশাআল্লাহ্‌।

 

এবার একটু বিরতি নাও। পাঁচ বা দশ মিনিট। তারপর আবার এসে পড়াটা শুরু কর। পড়ার সময়ে কিছুক্ষণ পর পর বিরতি নেওয়া উচিৎ। কেন এভাবে কীভাবে বিরতি নিতে হয়, তা নিয়ে আমার একটি লেখা আছে। চাইলে এই ফাঁকে সেটিও পড়ে আসতে পারো।

এখানে ক্লিক করলে লেখাটি পড়তে পারবে।

 

আচ্ছা, তুমি ভবিষ্যতে কী হতে চাও?

এই প্রশ্ন বাদ দিলাম। অন্য একটা প্রশ্ন করি।

ভবিষ্যৎ মানে কী বুঝো তুমি?

বুঝো যে, অতীত বা বর্তমান কাকে বলে?

তুমি এক সময় ছোট ছিলে। পড়তে পারতে না, লিখতে পারতে না, সেটা হল তোমার অতীত।

বর্তমান কী?

এই যে তুমি আমার লেখাটা পড়ছো, এটাই হল তোমার বর্তমান।

আর আল্লাহ্‌ তায়ালা যদি চান, একদিন তুমি আরবী ভাষা শিখতে সক্ষম হবে, কোরআন-হাদীসের অর্থ নিজে নিজে বুঝতে পারবে, সেটাই হবে তোমার ভবিষ্যৎ ইনশাআল্লাহ্‌।

 

আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা তুলেছি কেন জানো?

আরবী ভাষার শব্দের প্রকার বুঝার জন্য এটা জানা জরুরী।

 

উপরে তুমি পড়েছে যে, এককভাবে উল্লেখ করা হলে যেই শব্দের অর্থ কল্পনা করা যায় না, সেটা হচ্ছে হরফ।

আর হরফের বিষয়টা বুঝিয়েছিলাম ‘থেকে’ ও ‘দিয়ে’, এই দুই শব্দের সাহায্যে।

এই দুই শব্দকে এককভাবে উল্লেখ করা হলে কোনো অর্থ বুঝে আসে না।

কিন্তু তার উপরে যেগুলো উল্লেখ করেছিলাম, সেগুলো পড়ার সাথে সাথেই অর্থ বুঝে আসে।

মনে করার জন্য শব্দগুলো নিচে আরও একবার উল্লেখ করছি।

বই, খাতা, কলম, ঘড়ি, খেয়েছি, যাব, লিখছে

এখানে মোট সাতটি শব্দ রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটি উল্লেখ করার সাথে সাথে তুমি একটিকরে দৃশ্য কল্পনা করতে পারো।

এখন বলো তো দেখি, এই সাতটি শব্দের কয়টির মধ্যে অতীত কাল, বর্তমান কাল বা ভবিষ্যৎ কালের অর্থ পাওয়া যায়?

বই? – কোনো কাল নেই।

খাতা? – কোনো কাল নেই।

কলম? – কোনো কাল নেই।

পেন্সিল? – কোনো কাল নেই।

খেয়েছি? – অতীত কাল।

যাব? – ভবিষ্যৎ কাল।

লিখছে? – বর্তমান কাল।

 

তাহলে আমরা কী দেখলাম?

দেখলাম যে, এককভাবে থাকলেও যে শব্দগুলোর অর্থ কল্পনা করা যায়, সেগুলো দুই প্রকার।

এক প্রকার শব্দের মধ্যে কালের বিবরণ আছে। অর্থাৎ, সেই প্রকার শব্দগুলো একটি সময়ের সাথে সম্পর্কিত। আর আরেক প্রকারের শব্দের মধ্যে কোন কালের বিবরণ নেই। সেই শব্দগুলো কোনো সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়।

এখন যে প্রকার শব্দগুলোর মধ্যে কোন সময়ের বিবরণ পাও, সেটিই হচ্ছে ফেল আর যে প্রকার শব্দে কোন সময়ের বিবরণ পাওয়া যায় না, সেটি হচ্ছে ইস্‌ম।

আশা করি, এবার ইস্‌ম ও ফে’লের পরিচয়ও তোমার সামনে স্পষ্ট।

যে শব্দ এককভাবে উল্লেখ করা হলেও অর্থ বুঝে আসে, কল্পনা করা যায়, সেগুলোর মধ্যে যদি কোনো সময়ের বিবরণ থাকে তাহলে শব্দটি ফে’ল এবং সময়ের বিবরণ না থাকলে শব্দটি ইস্‌ম।

আশা করি, ইস্‌ম, ফেল ও হরফের বিষয়টি তোমার সামনে স্পষ্ট।

 

সহজে বুঝাতে গিয়ে উপরে অনেক কথা লেখা হয়েছে। তার মধ্যে যেগুলো মনে রাখা জরুরী, সেগুলো আরও একবার প্রশ্নোত্তর আঁকারে সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করা হল। সংক্ষিপ্ত এই কথাগুলো মুখস্থ করতে ভুলো না।

আর ভুলো না এই লেখা সম্পর্কে তোমার মতামত জানাতেও।

 

১. আরবীতে শব্দকে কী বলে?

আরবী ভাষায় শব্দকে كَلِمَة (কালিমা) বলে।

 

২. আরবী ভাষায় শব্দ কয় প্রকার ও কী কী?

আরবী ভাষায় শব্দ মোট তিন প্রকার। اِسْم (ইসম), فِعْل (ফেল) ও حَرْف (হরফ)।

 

৩. ইসম কাকে বলে?

এককভাবে থাকলেও যে শব্দের অর্থ বুঝে আসে এবং যার মধ্যে কোনো সময়ের বিবরণ পাওয়া যায় না, তাকে ইসম বলে।

 

৪. ফেল কাকে বলে?

এককভাবে থাকলেও যে শব্দের অর্থ বুঝে আসে এবং যার মধ্যে কোনো না কোনো সময়ের বিবরণ পাওয়া যায়, তাকে ফেল বলে।

 

৫. হরফ কাকে বলে?

এককভাবে থাকলে যে শব্দের অর্থ বুঝে আসে না বরং অন্য শব্দের সাথে মিলিতভাবে আসলে যার অর্থ বুঝে আসে, তাকে হরফ বলে।

Facebook Comments

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *