তারকিব

তারকিব।

আরবী ব্যাকরণের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

এবং সেই সাথে ভালোলাগার মতো-ও একটি বিষয়।

তবে তারকিব তোমার ভালো লাগবে কি লাগবে না, তা নির্ভর করে তোমার বুঝা না বুঝার উপর।

তুমি যদি তারকিব বুঝতে পারো, তাহলে তারকিব খুব সহজ ও আনন্দের। আর না বুঝলে তোমার মনে হবে তারকিব খুব কঠিন ও বিরক্তিকর।

 

তাই আমি খুব চেষ্টা করি ছাত্রদের সহজে তারকিব বুঝাতে। আর বুঝানোর ক্ষেত্রে আমার প্রধান মাধ্যম সাইকেল। প্রায় প্রতি বছর আমি সাইকেলের উদাহরণ দিয়ে ছাত্রদের তারকিব বুঝাই। এই বছরেও (২০২১) আমি তা করেছি। তবে এই বছরের বুঝানোর পদ্ধতিটা ছিল অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি ভালো। সেই অভিজ্ঞতটাই নিচে তোমার সামনে বর্ণনা করছি। সেটা পড়ে তুমি জানতে পারবে, তারকিবের পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা। আর জানতে পারবে, কীভাবে কঠিন বিষয় সহজে শেখানো যায়, প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ক্লাসরুম।

 

 

আমার এক ছাত্র বাসা থেকে সাইকেল দিয়ে আসে মাদরাসায়। রাখে মাদরাসার নিচে।

একদিন তাকে বললাম সাইকেলটা মাদরাসার ভিতরে নিয়ে আসতে। নিয়ে আসলো। রুমের এক পাশে রাখলাম সাইকেল আর এক পাশে দাঁড় করালাম ছাত্রদের। তারপর হাত রাখলাম সাইকেলের হ্যান্ডেলে। নাম জানতে চাইলাম সাইকেলের এ অংশের। সবাই নাম বলতে পারলো। তারপর একে একে হাত ও পা রাখলাম সাইকেলের সিট, বেল, চাকা, প্যাডেল, চেইনসহ আর কয়েকটি অংশে। তারপর তাদের মুখ থেকেই শুনে নিলাম সাইকেলের বিভিন্ন অংশের নাম।

 

তারপর সরে এলাম সাইকেলের কাছ থেকে। কাছাকাছি এলাম ছাত্রদের। প্রশ্ন করলাম।

‘তোমরা এত সময় কী করেছে জানো?’

কী উত্তর দিবে? ছাত্ররা বুঝতে পারছে না।

‘তোমরা এতক্ষণ করেছো সাইকেলের তারকিব।’

যেন আরও বেশি বিভ্রান্ত হয়ে গেল তারা।

আমি বলতে শুরু করলাম।

তারকীব আসলে কী? তারকীব মানে একটি বাক্যের বিভিন্ন অংশের পরিচয় বলা। বাক্যের একটি অংশকে বলা অমুক। আরেকটি অংশকে বলা তমুক। এভাবে বাক্যের এক একটি শব্দ বলে বাক্যে তার অবস্থান বর্ণনা করার নামই তারকিব। তোমরা এত সময় সাইকেলের বিভিন্ন অংশের নাম বলেছো। বাক্যের বিভিন্ন অংশের নাম বর্ণনা করাকে যদি বাক্যের তারকীব বলা হয়, তাহলে তো তোমরা এতক্ষণ সাইকেলের তারকিব করেছো, তাই না?

 

জানি না লেখাগুলো পড়ার এই সময়টাতে তোমার মুখের এখন কেমন? তবে ছাত্রদের মুখে কিন্তু হাসি ছিল। যেই হাসিটা এই মুহূর্তেও আমার মনকে প্রফুল্ল করছে।

 

আচ্ছা, বলো তো, যে সাইকেল চালায়, সে কি সাইকেলের বিভিন্ন অংশ চিনে?

কী বলো তুমি?

ছাত্ররা এই প্রশ্নের উত্তরে ‘অবশ্যই’ বলেছিল।

আসলে সাইকেলের চাকা না চিনলে, সিট না চিনলে, বিভিন্ন অংশ না চিনলে সাইকেল চালানো সম্ভব না। তেমনি তুমি যদি আরবী বাক্যের বিভিন্ন অংশকে চিনতে না পারো, তাহলে আরবী বাক্যগুলোও নির্ভুলভাবে পড়তে সক্ষম হবে না। বুঝতে পারবে না, একটি শব্দের শেষ হরফে যবর, যের না পেশ হবে।

আরবী ভাষার অনেক শব্দের ক্ষেত্রেই শেষ হরফে পরিবর্তন হয়। যেমন ধরো ‘ওয়ালাদ’ শব্দটি। আরবীতে এই শব্দটি ছয় ভাবে পড়ার সুযোগ আছে। ওয়ালাদুন, ওয়ালাদান, ওয়ালিদিন, ওয়ালাদু, ওয়ালাদা, ওয়ালাদি। এখন তুমি কীভাবে পড়বে শব্দটি? তুমি তখনই নির্ভুলভাবে শব্দটি পড়তে পারবে যখন তোমার জানা থাকবে এই শব্দটি যে বাক্যে ব্যবহৃত হয়েছে, সেই বাক্যের তারকিব।

তোমাকে হয়তো এই কথাটিও আনন্দিত করবে যে, তারকিবে দক্ষ হলে হরকত ছাড়াই তুমি আরবী ভাষার বিভিন্ন লেখা পড়তে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ্‌। যেমন আরবরা হরকত ছাড়াই আরবী লেখাসমূহ পড়ে থাকে।

 

সেই সাথে তারকিব জানলে করতে পারবে যেকোনো বাক্যের বিশুদ্ধ তরজমা।

তারকিব জানলে বুঝতে পারবে, কোন শব্দের পর কোন শব্দ বসানো উচিৎ। ফলে একটি বাংলা বাক্যকে সুন্দরভাবে আরবীতে রুপান্তর করতেও সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ্‌।

তারকিব শেখার আরও অনেক উপকারিতা আছে। সেগুলোর সব উল্লেখ করে লেখাটিকে আর বড় করতে চাইছি না। যখন তুমি তারকিব করায় দক্ষ হবে, তারকিব শেখার সেই সমস্ত ফায়দাও তখন তোমার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌।


তারকীব করার সময় তুমি সবচেয়ে বেশি যেই শব্দটি শুনবে, সেটি হল ‘জুমলা’।

জুমলা কাকে বলে এবং তা কয় প্রকার ও কী কী? তা নিয়ে একটি লেখা তৈরি করব ইনশাআল্লাহ্‌।

ইনশাআল্লাহ্‌, লেখাটি প্রকাশ করার পরে সেই লেখার লিংক এখানে যুক্ত করে দেওয়া হবে।


১. তারকীব কাকে বলে?

বাক্যে অবস্থিত শব্দসমূহের অবস্থান বর্ণনা করাকে তারকীব বলে।

 

২. তারকীব শেখা কেন জরুরী?

তারকীব শিখলে বাক্যে অবস্থিত শব্দগুলোর শেষে সঠিকভাবে হরকত বসানো যায়। আরবী বাক্যের বিশুদ্ধ ও নির্ভুল তরজমা করা যায় এবং বাংলা বাক্যকেও সঠিকভাবে আরবীতে রুপান্তর করা যায়। এরকম আরও অনেক কারণে আরবী ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য তারকীব শেখাটা জরুরী।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *